পাওয়া না-পাওয়া

আমার চশমা পরতে খুব ভালো লাগে। ক্লাস সিক্সে থাকতে যখন চোখের পাওয়ার ধরা পড়লো, কি যে খুশি হলাম। তবে, সেই পাওয়ার কখনোই মাইনাস ১ ছাড়ায়নি। এখন এক চোখের জন্য চশমা লাগে। তাও মাইনাস পয়েন্ট ফাইভ। পরলেও চলে না পরলেও চলে। বেশ কিছুদিন যাবত চশমা পরা হচ্ছে না। আসল কথা হচ্ছে খুঁজে পাচ্ছি না। আমি এতই অলস যে খোঁজার কোন উদ্যোগও নেইনা। কিন্তু, মনে মনে ঠিকই চশমা না পরার দুঃখ। আজকে আমার ছোট ফুপ্পি বাসায় এসে বললো, “তোর কোন পেট মোটা ব্যাগ দে তো”। ফুপ্পি ইদের পরদিন দার্জিলিং যাবে, তাই এই খোঁজ। আমি বললাম, “হেল্প ইয়রসেলফ, নিজেরটা নিজেই খোঁজো”। ফুপ্পি ব্যাগ খোঁজা শুরু করলো এবং কিছুক্ষণের মধ্যে একটা পছন্দ করে নিলো। ব্যাগের ভেতর থেকে সব বের করতেই আমাকে আমার চশমা বের হলো। আমি তো অবাক। পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম। যাকে খোঁজার জন্য আমাকে বিন্দুমাত্র চেষ্টা ছিল না, তা আমার হাতে একাই চলে আসলো। আর যারে আমি খুঁজিয়া মরি, তারে আমি পাইনা। কে ব্যখ্যা দেবে আমার এই পাওয়া-না পাওয়ার খেলার?

বেলী বন্দনা

“বেলি” লিখে মুছে ফেললাম। লিখলাম “বেলী”। পছন্দের আধিক্য বোঝাতে “দীর্ঘ ই” ব্যবহার করা যায় কিনা ব্যকরণের এমন নিয়ম মনে করতে পারছি না। “হ্রস্ব ই” তে একটু অপূর্ণ লাগছিল তাই এমন নিয়ম আছে ধরে নিয়েই “বেলী” বানানটিকে বেছে নিলাম।

গেল সপ্তাহে লাবণ্যর এক বন্ধু আমার জন্য বেলী ফুলের মালা পাঠিয়েছে। খুব কাছের কোন বন্ধু হলেও বুঝতাম, বেশ নতুন এবং দূরের বন্ধুই বলা চলে। আমার সাথে দেখা হয়েছে একবার মাত্র, তাও হঠাত দেখা, কিছু মুহূর্তের। বেশ অবাক হলাম, সাথে খুশিও হলাম। মালা দিয়ে লাবণ্য আমাকে বললো, তার বন্ধু এই মালা আমাকে দিতে বলে অনুরোধ করেছে আমি যাতে ওদের নেটফ্লিক্স এর একাউন্ট খুলে দেই। আশ্চর্য!!! আমি কি এত সস্তা নাকি, বললেই হলো?

মালা হাতে নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে রইলাম। জীবনের এক লাখ তম বেলী মালা পেয়েও আমি এমনই মুগ্ধ হবো বলে ধারণা করা যায়।

বহুকাল পরে বেলী মালা উপহার পেয়ে, কম্পিউটার খুলে নিজের প্রথম পাওয়া বেলী মালার ছবি বের করলাম। গত দশ বছরে অনেকবার কম্পিউটার বদলেছি। তবে পুরোনো সব ছবি রেখে দিয়েছি যত্ন করে। কিশোরী বয়সী –  নোকিয়া ফোন এর ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে সেলফি প্রথার আগের যুগের তোলা সেলফি গুলো দেখলাম। মূল ছবি গুলো কেন যেন নেই, এডিট করা সাদা কালো, কন্ট্রাস্ট বাড়ানো সব ছবি।  

    

 

দু’দিন আগে ওদেরকে নেটফ্লিক্স একাউন্ট খুলে দিলাম। দশ বছর পরে এসেও এখনো আমি বেলী ফুলের মালার কাছে বিক্রি হয়ে যাই!

বর্ষবরণ ও বৃষ্টি বন্দনা!

আমার পছন্দ চৈত্রের আকাশের গগনবিদারী বর্ষণ, তাই বসন্তের পরে আসা বৈশাখী বৃষ্টিকে আলাদা করে কখনো দেখা হয়নি।এ বছর পুরো ঢাকা শহরবাসী যখন চৈত্র মাসের শিলাবৃষ্টিতে আচ্ছন্ন, আমার বাসার এদিকে তখন কেবলই গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টিপাত। কি যন্ত্রণা! আমার অফিসও যে আর মহাখালি বা গুলশানে নেই। একবার মনে করলাম, বৃষ্টি দেখার জন্য হলেও ওদিকটায় আবার কাজ খুঁজবো কিনা। দেখতে দেখতে চৈত্র শেষে বৈশাখের পদার্পণ ঘটলো। অন্যান্যবারের মতন এবার আর কোন নতুন শাড়ি কেনা হয়নি। দুপুরে দাওয়াত ছিল বিধায় বোনের একটা ঘিয়া শাড়ি লাল ব্লাউজের সাথে গায়ে চড়ালাম। একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল দাওয়াতে যেতে, তাই বিকেল সাড়ে চারটায় দুপুরের খাবার শেষ করলাম। হাত ধুতে গিয়ে পাশেই জানালায় দেখি আবার সেই বিরক্তিকর গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি। অসহ্য! অসহ্য! অসহ্য! বান্ধবীদের সাথে বের হওয়ার কথা ছিল বিকেলের পর। সেই হিসেবে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বের হলাম। অবশ্য তাকে বৃষ্টি বলা যায় না, ক্ষুদ্র জলকণা পতন-ই হওয়া উচিত এর সার্থক নামকরণ। ঘন বর্ষণ না হলে কি হবে, রিকশার কোন দেখা নেই। অনেকদূর হেঁটে একটা রিকশা পেলাম। হুড আর তুললাম না। সাথে সাথেই এক বান্ধবীর ক্ষুদেবার্তা পেলাম, বৃষ্টি নাকি বাড়ছেই তাই বের হওয়া যাবে না। অপর বান্ধবীটি আগের জনমে আমার মতন পাগলাগারদের বাসিন্দা ছিল বলেই ফোন করে জানালো, সে আড়ং এর সাত তালায় সেভেনথ হেভেন এর বারান্দায় বসে বৃষ্টিতে ভিজছে, আমি যেন জলদি চলে আসি। অবশেষে, আশায় বুক বাঁধলাম, আমিও বুঝি কিছুক্ষণের  মধ্যে বৃষ্টি  বন্দনা করতে পারবো। আড়ং পর্যন্ত আর যেতে হলো না, অর্ধেক রাস্তা যেতেই, টাউনহলের কাছে বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম। আহারে, গত একটা মাস, যতবার মেঘের গর্জন শুনেছি, বাসার নিচে এসে দাড়াতাম ভিজবো বলে, কিন্তু কপালে জুটতো না এ বর্ষণ, বুকে রয়ে যেত চৈত্রের কাঠফাটা রোদে পোড়া হাহাকার। এখন আমার শরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছে অঝর জলরাশি। আহা! স্বর্গও মনে হয় এমনই কিছু হবে। রিকশায় বসে বৈশাখের ও বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজছি, শরীরে জড়ানো খাদি শাড়ি, শাড়ি জুড়ে লেখা রবিঠাকুরের গান,

“বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান–

     তুমি কি  এমন শক্তিমান!

আমাদের   ভাঙাগড়া তোমার হাতে এমন অভিমান–

              তোমাদের   এমনি অভিমান ॥

     চিরদিন টানবে পিছে,   চিরদিন   রাখবে নীচে–

     এত বল   নাই রে তোমার,   সবে না সেই টান ॥

শাসনে   যতই ঘেরো   আছে বল   দুর্বলেরও,

     হও-না   যতই বড়ো   আছেন ভগবান।

          আমাদের  শক্তি মেরে   তোরাও   বাঁচবি নে রে,

              বোঝা তোর   ভারী হলেই ডুববে তরীখান।”

তাইতো, “বোঝা তোর ভারী হলেই ডুববে তরীখান  ” – সত্যিই তাই হলো। আমার অভিযোগ-অনুযোগের বোঝা সইতে না পেরে আজ প্রকৃতি নিজের সব বিলিয়ে আমাকে এই বরিষাধারায় নিয়ে চলছে। এই পথ যদি না শেষ হয় – মনে হয় এমনই দিন, এমনই ক্ষণের জন্য গাওয়া হয়। তবে, গেয়েও লাভ হয় না, কারণ পথ শেষ হয়, আমিও যেমন গন্তব্যে পৌঁছালাম। আড়ং এ নেমে দেখি, অন্তত শ’খানেক মানুষ এ হঠাত বর্ষণ থেকে নিজেদের বর্ষবরণের সাজগোজ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে নিজেদের আড়াল করে রেখেছে। রাগ হলো না, দুঃখ হলো। এমন বৃষ্টিতে না ভেজা যে পাপ, এরা কি তা জানে না। যাই হোক, অন্যের হিসাব নিকাশ না করে, লিফট এ উঠলাম। এক তলা পার হতেই লিফট আটকে গেলো। অন্য দিন হলে, দুপুরে দেখা এক শালিকটিকে শাপ-শাপান্তে অতিষ্ট করে ফেলতাম। আজ মন খুব ভালো, তাই ধৈর্য ধরে লিফট ঠিক হয়ার অপেক্ষা আছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠিক হলো সব, আর আমি সপ্তম স্বর্গে পৌছালাম। সেভেনথ হেভেনের বাংলা হিসেবেই নয়, আজ এই স্থান আমার জন্য প্রকৃত-অর্থেই সপ্তম স্বর্গ।

এই রেস্টরেন্টের বারান্দাটার গ্রীল নেই, নীচ থেকে অর্ধেকটা কাঁচ দিয়ে ঘেরা, সামনেই সুপ্রশস্ত মানিক মিয়া এভিনিউ এর আলপনায় রাঙ্গা রাস্তা, আর যতদূর চোখ যায়, কেবলই সবুজ আর সবুজ। বারান্দায় বের হতেই, আবারো শরীরে পড়লো বৃষ্টির এলোপাতাড়ি আক্রমণ, সাথে বাতাসের তীব্র বেগ। এখানে তো আমি অসংখ্যবার এসেছি, এমন ভাবে বৃষ্টিতে ভেজা তো কখনো হয়নি। ঠিক যেমন অসংখ্যবার শরীরে শাড়ি জড়ালেও, কখনো বৃষ্টি স্পর্শ করেনি আমার শাড়িময় অবয়ব। ঝাপসা চোখে আমার সখীর দেখা পেলাম, সেও যেন এমন বৃষ্টি দেখে আজ এক বাঁধনহারা প্রাণ। আমার চোখে চোখ পড়তেই বলে উঠলো, আমিই তার সবচেয়ে প্রিয়, সবার চেয়ে প্রিয়। হবোই না বা কেন? কত-শত এমন ক্ষণ যে আমাদের বন্ধুত্বের সাক্ষী।নতুন বছরের প্রথম আলিঙ্গন তার কাছ থেকেই পেলাম আর বারান্দায় পাতা চেয়ার টেবিলের একটিতে বসে পড়লাম। জীবনের অর্থ কি – এ প্রশ্ন করে করে সবার মাথা নষ্ট করে দেই, কিন্তু এমন কিছু মুহূর্ত ক্ষণিকের জন্য হলেও আমার কৌতুহলী মনকে ক্ষান্ত দেয়। মনে হয় – এই তো জীবন, এই তো জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সার্থকতা। ঘন্টা-খানেক ভারী বর্ষণে জীবন-দর্শন এর ব্যবচ্ছেদ করে মনে হলো চা-কফি খেতে হবে। একটা কফি অর্ডার করে আবার কি মনে হলো, আমরা অর্ডার বাতিল করলাম, আর নিচে নামার প্রস্তুতি নিলাম। ঠিক তখনই আমার পাদুকাখানি নিজের জীবননাশের আভাস দিল। শাড়ি তুলে দেখলাম, আমার রুপালি রঙের জুতো ছিঁড়ে গেছে। এবার বসন্ত বরণেও আমার জুতো ছিড়ে গিয়েছিল, বর্ষবরণের দিনেও ছিঁড়ল। যেহেতু মন খুবই তুষ্ট, তাই ভেবে নিলাম, আমার সোনালী আভা দেয়া শাড়ির সাথে বেমানান রুপালি ্জুতোখানি প্রকৃতির মনে সয়নি, তাই এমন হলো। নিচে আড়ং এ নেমে এক জোড়া সোনালী সুন্দর জুতো কিনে ফেললাম। এবার একেবারে সোনালী আভা আর লালে সজ্জিত পায়ে নামলাম রাজপথে।

কোথায় যাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে বের করলাম, রবীন্দ্র সরোবর যাই। রিকশা ঠিক করে রওনা দিলাম দু’জন। কিছু পথ যেতেই দেখি শরীরে কি যেন বাড়ি খাচ্ছে, বুঝতে বাকি থাকলো না যে শিলা বর্ষণ হচ্ছে। বান্ধবী বললো, শাড়ির আঁচল পেতে শিলা ধরতে। তাই করলাম। শাড়ির আঁচল পেতে দিলাম, আর প্রকৃতি করুণা বর্ষণ করলো শিলা-রূপে, তাই আমরাও আকাশপানে চেয়ে হা করে করুণা পান করলাম আর আমি জীবনে প্রথমবার শিলা মুখে দিলাম। কপালের লাল টিপকে আবিষ্কার করলাম ব্যাগের ভাজে, কখন যেন সে আমার ললাট ছেড়ে উঠে এসেছে, খেয়ালও তো করিনি। অতঃপর, ধানমন্ডি ৮ নাম্বার পৌঁছালাম, রবীন্দ্র সরোবর নামলাম এবং বুঝলাম কোথাও চা নেই। তবুও অনেক দূর হাটলাম, সরোবর আর সাত মসজিদ রোডের মাঝখানের ব্রীজটা পার হয়ে মাঝের দোকানগুলোর একটাতে বসলাম এবং চা না পেয়ে কফি দিয়ে শরীরকে একটু উষ্ণ করলাম। ব্রীজ পার হতে গিয়ে দেখলাম, বাংলা নববর্ষের প্রথম সূর্যাস্ত।লেকের উপর জলকণার পতনের সাথে অস্তপ্রায় সূর্যের আলো মিশে একাকার। গোধূলির এমন রূপ আগে দেখেছি কিনা মনে করতে পারছি না।  তিতকুটে কফি পান করে মন ভরলো না, তবে ঠান্ডাটা একটু কাটলো। এক প্লেট ফুচকা খেয়ে কফির বিশ্রী ফ্লেভার মুখ থেকে দূর করলাম। শেষ বিকেলের আলোয় কাটলো আমার স্মৃতিমুখর এক সন্ধ্যা। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে, হেঁটে হেঁটে মেইন রোডের দিকে  এগিয়ে গেলাম। তবে, আমার বুকজুড়ে তখনো এক কাপ চায়ের হাহাকার। বুঝতে পেরে বান্ধবী আমায় নিয়ে গেলো আমার আজকালকার প্রিয় বেঙ্গল বইয়ে। বেঙ্গল বইয়ে আমার রোজকার জায়গা, বৈঠকখানাতে বসে চা-সিঙ্গারা অর্ডার করলাম। চা পানের মাধ্যমে আমার এ অপূর্ব দিনটির ষোলকলা পূর্ণ হল।

জীবনে অনেক বৈশাখ এসেছে, অনেক বৈশাখী বৃষ্টিতেই কত জলকেলি করেছি। তবে, এবারের মতন বর্ষবরণ কখনো করিনি। পহেলা বৈশাখ মানেই আমার কাছে ছিল সকালের স্নিগ্ধ বাতাস, বটমূলের গান, দুপুরের কাঠফাটা রোদ , বিকেলের আড্ডা আর রাতের দাওয়াত। অথচ, এবার বছরকে স্বাগত করলাম নতুন আঙ্গিকে।ভিন্ন এক বর্ষবরণের অভিজ্ঞতা হবে বলেই হয়তো, এবারের চৈত্র আমার গেলো বর্ষণহীন আর বৈশাখ শুরু হলো বৃষ্টি-বন্দনা দিয়ে।

Unsent – 2

প্রিয়  ydgfgh,

আশা করি ভালো আছো। একটু আগে বাসার ওভেন ভেঙ্গে আসলাম। ইচ্ছে করে ভাঙ্গিনি। ভাত গরম করতে খুলবো ওভেন টা, ওমা! কাঁচ ভেঙ্গে আমার শরীরে বাড়ি খেয়ে সব কাঁচ মেঝেতে পড়ে গেল। সে যাই হোক, চিঠি শুরু করি। আমাদের কথা হয় না প্রায় ৩ বছর, শেষ দেখেছি মনে হয় সাড়ে পাঁচ বছর আগে। হঠাৎ তোমাকে লিখছি, কারণ দু’দিন আগে মনে হলো আমার তোমার প্রতি এখন আর কোন অভিমান, অনুযোগ কিছুই নেই। আসলেই নেই। জানিনা কিভাবে বা কখন আমার ক্ষত শুঁকিয়ে গেছে, টেরও পাইনি। টের পেলাম, যখন আমার হৃদয়ের বদ্ধ কূপগুলোকে উন্মুক্ত আবিষ্কার করলাম। ভেবেছিলাম, হয়তো তোমার প্রতি জমে থাকা আমার ঘৃণা বাড়তেই থাকবে, কখনো মুছবে না। পঁচিশ পেড়িয়ে বুঝলাম, তুমি বন্ধু হিসেবে সেরা ছিলে, তবে আমাদের মধ্যে কখনো ভালোবাসা ছিলই না। ভালো লাগা হয়তো ছিল, আর ছিল আমার শেষ কৈশোর  এবং তোমার প্রথম যৌবনের মোহ। এমন না যে – আমি খুব আফসোস করি এ নিয়ে। চোখ বন্ধ করলে এখনো আমি বসুন্ধরা বালুমাঠের একদিকে চাঁদ আর একদিকে সূর্য দেখতে পাই। দেখতে পাই লিটল ইটালি যাওয়ার পথে রাস্তাটা।  একটু চেষ্টা করলেই দেখতে পাওয়া যাবে ইয়াহু মেসেঞ্জারে তোমার মেসেজ গুলো,  অথবা চিটাগং এর সাইবার ক্যাফেতে তোমার গ্রেড ইলেভেনের এসাইনমেন্ট করতে এসে আমায় করা দীর্ঘ ইমেইল গুলো। এখনো টিরামিসু খেতে  গেলে তোমার কথাই মনে পড়ে। এগুলো আজীবন আমার সাথেই রয়ে যাবে, কিন্তু যে ক্ষোভ তোমার প্রতি ধারণ করেছিলাম, তা আর থাকলো না। অন্য কাউকে যখন ভুলে ভালবেসে ফেললাম তখন বুঝলাম ভালবাসা আর মোহের পার্থক্য। কথাগুলো তোমাকে বলতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু যোগাযোগ করা মনে হয় ঠিক হবে না। ভালো থেকো, ভালোবাসার মানুষদের ভালো রেখো।

ইতি,

bangali_tonoya

Unsent – 1

I shouldn’t have said all those things to you, but anyone saying anything to me about my marriage just exasperates me at the moment. When I got to know about your recent issue, it made me really sad and i felt like i should save some chanachur for you too. I wanted to tell you how upset i was to know about it, and that perhaps every end is a new beginning, but ended up with ranting. Sorry, Maybe.

yours truly

Melancholy!

I wrote the title first and now pretty clueless about it!

“But when the melancholy fit shall fall
Sudden from heaven like a weeping cloud,
That fosters the droop-headed flowers all,
And hides the green hill in an April shroud;
Then glut thy sorrow on a morning rose,
Or on the rainbow of the salt sand-wave,
Or on the wealth of globed peonies;
Or if thy mistress some rich anger shows,
Emprison her soft hand, and let her rave,
And feed deep, deep upon her peerless eyes.”

– Few lines from Keats

এপার-ওপার

Free

রবিবার আমার অফিস থাকে। আজকে নেই, কারণ গত সপ্তাহে আমি টিম বদল করেছি। একই প্রতিষ্ঠানের অন্য টিমে, যেখানে ছুটির দিন শনি-রবি। ভর দুপুরে মালেকার ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গলো, আমার খালাতো ভাই এসেছে বাসায়। হুর-ধুর করে চোখ ডলতে ডলতে ঘর থেকে বের হলাম। ভাইয়া বললো, বড়-আব্বা মানে আমার খালু অসুস্থ – হাস্পাতালে নেয়ার জন্য আমাদের কোন গাড়ি নিচে আছে কিনা। আমরা একই বিল্ডিং এর পাঁচ তালা -আট তালায় থাকি। ভাইয়া ইন্টারকমে বললেই পারতো ফোন করে। আমার ভাই অতি বিনয়ী বিধায় বাসায় এসে বললো। অতি দ্রুত  ড্রাইভারকে খবর দিলাম,  পাঁচ তালায় গেলাম। সবাই চিন্তিত, বড় আম্মা ব্যাগ গুছিয়ে রেডী। বড় আব্বা, বড় আম্মা, ভাইয়া আর আমি লিফট দিয়ে নামলাম। বড় আব্বাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিলাম।

পৃথিবী্র ওপার থেকে এপারে যখন আমার আবর্তন, আমার বাবা মা এর ঢাকায় নিজের ঠিকানা ছিল না। জন্মের পর হাস্পাতাল থেকে আমি বড় আব্বার গাড়িতে করেই উনার সলিমুল্লাহ রোডের  ৯/৯ এর বাসায় উঠেছিলাম। আমার প্রথম চড়া গাড়ি- আমার প্রথম বাসস্থান যার, তাকে আমি গাড়িতে তুলে দিলাম। আমি জানি না যে, ঠিক ২১ দিন পর উনি পৃথিবীর ওপারে পাড়ি দিবেন। আজ রবিবার – আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে রবিবার!

 

গরমিলে গরমিল

গরমিল বানান “গড়মিল” নয়, “গরমিল”। হায় সেলুকাস! মাঝে মাঝে ভুল  বানানের মতনই ভুল হিসেব করে ফেলি আমি। শান্তির বৃষ্টিকে তুমুল ঝড় ভেবে ঘরে বসে থাকি। মিষ্টি রোদকে ভুল করি খরা মনে করে। এবারও হিসেব ভুল করেছি কোথাও। জীবন এতও কঠিন নয়। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগটা শুধু ঠিক মতন ঠিক সময়ে করতে জানতে হয়। এই আরকি!

গড়মিল

জীবনের এই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে কোন কিছু মেলাতে পারছি না। এমনটা কি হওয়ার কথা ছিল? জীবনের কোন না কোন দিকে মানুষ নাকি জিতে যায়! তাহলে আমি কেন সব দিকে হেরে যাচ্ছি! যেদিকে তাকাই, শুধুই বিক্ষিপ্ত জাবেদা আর হাহাকারের প্রতিধ্বনি। বেঁচে থাকার প্রয়জনীয়তা নিয়ে আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই সন্দিহান। স্বাভাবিক উপায়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে পারছি না, তাই অস্বাভাবিক সব উপায়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। লোকে বলে, “গ্রোয়িং আপ সাক্স” – এ কথার অর্থ আজকাল বুঝতে পারি। জীবনের কোন একটা দিকের হিসেব মেলাতে পারলে হয়তো তা আকড়ে ধরে জীবন পাড় করে দিতে পারতাম। 13690772_1320959477932322_5087905450682606028_n