ভয়

রাত সাড়ে চারটা বাজে প্রায়, ফ্যানের শব্দ ছাড়া আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না। গত কিছুদিন ধরে একেবারেই রাতে ঘুমাতে পারছি না। না, মুভি-সিরিজ দেখে বা ইন্টারনেটের কারণে না; ভয়ে ঘুমাতে পারি না। কবে যে এত ভীতু হয়ে গেলাম, নিজেও জানি না। কি হাস্যকর! ভয়ের কারণ অবশ্য আছে, কিন্তু বাসার সবাই দিব্যি ঘুমাচ্ছে। শুধু আমি ফজরের আজান আর ভোরের আলো না দেখে ঘুমাতে পারছি না।ইনসোমিয়া আগে রাতের প্রিয় বন্ধু ছিল, তার কারণে রাত জাগতে খারাপ লাগতো না। তবে, এই বিশেষ ধরণের ফোবিয়া নিয়ে রাতে ঘুমাতে না পারা খুবই বাজে। কি যে বিশ্রী একটা অনুভূতি, আশ্চর্য! লিখলে নাকি যে কোন অনুভূতি একটু হাল্কা হয়ে যায়, তাই এই ভোর-প্রায় সময়ে, কম্পিউটার অন করে লিখতে বসলাম। কিন্তু, বসেও শান্তি নেই, মনে হচ্ছে পেছন থেকে কেউ আসছে বোধ হয়, আর একটু পর পর ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, ফ্যানের বন বন ঘোরার চেয়ে আমার হৃদস্পন্দনের শব্দ বেশি; মাঝে মাঝে আবার নিচের কারেন্টের স্পার্কের শব্দে চমকে উঠি। টিন এজে যখন গল্প লিখতাম, প্রায়ই রহস্যময় গল্প লিখতাম, রগরগে ভয়ের যে কাহিনী গুলো লিখতে গিয়ে কখনো হাত  কাঁপতো না। এখন কাঁপে, এটা চিন্তা করেই না জানি কি হচ্ছে, এখনই মনে হয় কিছু হবে। ভয় মনে হয় সবচেয়ে বাজে অনুভূতি। আপনি জানবেন না আপনার সাথে যা হতে পারে, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়া উচিত নাকি্‌ কিছু হবে না এই আশা করে নিশ্চিন্তে থাকা উচিত। ভয় কাটানোর উপায় কি জানা আছে, হে মানবজাতি??? আমি আমার ইনসোমিয়াতেই ভাল ছিলাম, এই ভয় বড় ভোগাচ্ছে!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *