Unsent – 2

প্রিয়  ydgfgh,

আশা করি ভালো আছো। একটু আগে বাসার ওভেন ভেঙ্গে আসলাম। ইচ্ছে করে ভাঙ্গিনি। ভাত গরম করতে খুলবো ওভেন টা, ওমা! কাঁচ ভেঙ্গে আমার শরীরে বাড়ি খেয়ে সব কাঁচ মেঝেতে পড়ে গেল। সে যাই হোক, চিঠি শুরু করি। আমাদের কথা হয় না প্রায় ৩ বছর, শেষ দেখেছি মনে হয় সাড়ে পাঁচ বছর আগে। হঠাৎ তোমাকে লিখছি, কারণ দু’দিন আগে মনে হলো আমার তোমার প্রতি এখন আর কোন অভিমান, অনুযোগ কিছুই নেই। আসলেই নেই। জানিনা কিভাবে বা কখন আমার ক্ষত শুঁকিয়ে গেছে, টেরও পাইনি। টের পেলাম, যখন আমার হৃদয়ের বদ্ধ কূপগুলোকে উন্মুক্ত আবিষ্কার করলাম। ভেবেছিলাম, হয়তো তোমার প্রতি জমে থাকা আমার ঘৃণা বাড়তেই থাকবে, কখনো মুছবে না। পঁচিশ পেড়িয়ে বুঝলাম, তুমি বন্ধু হিসেবে সেরা ছিলে, তবে আমাদের মধ্যে কখনো ভালোবাসা ছিলই না। ভালো লাগা হয়তো ছিল, আর ছিল আমার শেষ কৈশোর  এবং তোমার প্রথম যৌবনের মোহ। এমন না যে – আমি খুব আফসোস করি এ নিয়ে। চোখ বন্ধ করলে এখনো আমি বসুন্ধরা বালুমাঠের একদিকে চাঁদ আর একদিকে সূর্য দেখতে পাই। দেখতে পাই লিটল ইটালি যাওয়ার পথে রাস্তাটা।  একটু চেষ্টা করলেই দেখতে পাওয়া যাবে ইয়াহু মেসেঞ্জারে তোমার মেসেজ গুলো,  অথবা চিটাগং এর সাইবার ক্যাফেতে তোমার গ্রেড ইলেভেনের এসাইনমেন্ট করতে এসে আমায় করা দীর্ঘ ইমেইল গুলো। এখনো টিরামিসু খেতে  গেলে তোমার কথাই মনে পড়ে। এগুলো আজীবন আমার সাথেই রয়ে যাবে, কিন্তু যে ক্ষোভ তোমার প্রতি ধারণ করেছিলাম, তা আর থাকলো না। অন্য কাউকে যখন ভুলে ভালবেসে ফেললাম তখন বুঝলাম ভালবাসা আর মোহের পার্থক্য। কথাগুলো তোমাকে বলতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু যোগাযোগ করা মনে হয় ঠিক হবে না। ভালো থেকো, ভালোবাসার মানুষদের ভালো রেখো।

ইতি,

bangali_tonoya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *