বেলী বন্দনা

“বেলি” লিখে মুছে ফেললাম। লিখলাম “বেলী”। পছন্দের আধিক্য বোঝাতে “দীর্ঘ ই” ব্যবহার করা যায় কিনা ব্যকরণের এমন নিয়ম মনে করতে পারছি না। “হ্রস্ব ই” তে একটু অপূর্ণ লাগছিল তাই এমন নিয়ম আছে ধরে নিয়েই “বেলী” বানানটিকে বেছে নিলাম।

গেল সপ্তাহে লাবণ্যর এক বন্ধু আমার জন্য বেলী ফুলের মালা পাঠিয়েছে। খুব কাছের কোন বন্ধু হলেও বুঝতাম, বেশ নতুন এবং দূরের বন্ধুই বলা চলে। আমার সাথে দেখা হয়েছে একবার মাত্র, তাও হঠাত দেখা, কিছু মুহূর্তের। বেশ অবাক হলাম, সাথে খুশিও হলাম। মালা দিয়ে লাবণ্য আমাকে বললো, তার বন্ধু এই মালা আমাকে দিতে বলে অনুরোধ করেছে আমি যাতে ওদের নেটফ্লিক্স এর একাউন্ট খুলে দেই। আশ্চর্য!!! আমি কি এত সস্তা নাকি, বললেই হলো?

মালা হাতে নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে রইলাম। জীবনের এক লাখ তম বেলী মালা পেয়েও আমি এমনই মুগ্ধ হবো বলে ধারণা করা যায়।

বহুকাল পরে বেলী মালা উপহার পেয়ে, কম্পিউটার খুলে নিজের প্রথম পাওয়া বেলী মালার ছবি বের করলাম। গত দশ বছরে অনেকবার কম্পিউটার বদলেছি। তবে পুরোনো সব ছবি রেখে দিয়েছি যত্ন করে। কিশোরী বয়সী –  নোকিয়া ফোন এর ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে সেলফি প্রথার আগের যুগের তোলা সেলফি গুলো দেখলাম। মূল ছবি গুলো কেন যেন নেই, এডিট করা সাদা কালো, কন্ট্রাস্ট বাড়ানো সব ছবি।  

    

 

দু’দিন আগে ওদেরকে নেটফ্লিক্স একাউন্ট খুলে দিলাম। দশ বছর পরে এসেও এখনো আমি বেলী ফুলের মালার কাছে বিক্রি হয়ে যাই!